কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ১০:১৩ AM
কন্টেন্ট: নোটিশ প্রকাশের তারিখ: ১৭-১২-২০২৫ আর্কাইভ তারিখ: ১৭-০১-২০৩০
বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা ইউনিট
সরেজমিন উইং
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
শৈত্য প্রবাহের জন্য বিশেষ কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ
(মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর,
চুয়াডাঙা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার জন্য)
বুলেটিন নং ১০৯
প্রকাশের তারিখ: ০১/০১/২০২৬
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) এর প্রতিবেদন (০১.০১.২০২৬) অনুযায়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ,
দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার উপর দিয়ে
শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শৈত্য প্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দন্ডায়মান ফসল রক্ষার জন্য নিম্নলিখিত জরুরি পরামর্শসমূহ প্রদান করা
হলো:
* অতিরিক্ত ঠান্ডার সময় বোরো ধানের বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বিকাল ৩টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে,
তবে খেয়াল রাখতে হবে পলিথিন যেন চারার পাতাকে স্পর্শ না করে। প্রতিদিন সকালে চারার উপর জমাকৃত শিশির
হাত/লাঠি/রশির সাহায্যে ঝরিয়ে দিতে হবে।
* বোরো ধানের বীজতলায় রাতের বেলায় পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখতে হবে এবং পরদিন সকালে আবার পানি বের করে দিয়ে নতুন
করে পানি দিতে হবে। বীজতলায় সবসময় ৩-৫ সে.মি. পানি ধরে রাখতে হবে।
* ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ধানের বীজতলায় চারা পোড়া রোগ দেখা দিতে পারে। রোগ দেখা দিলে রোগের প্রাথমিক অবস্থায়
এমিস্টার টপ (এজোক্সিস্ট্রবিন+ডাইফেনোকোনাজল গ্রুপ) অথবা সেন্টিমা (পাইরাক্লোস্টবিন গ্রুপ) নামক ছত্রাকনাশক অনুমোদিত
মাত্রায় (৩ মিলি ঔষধ/লিটার পানি) ভালোভাবে স্প্রে করে চারা ও মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে।
* নিম্ন তাপমাত্রা ও কুয়াশাময় আবহাওয়ায় পেঁয়াজে পার্পল ব্লচ এবং পেঁয়াজ/রসুন এর জমিতে টিপ বার্ণ রোগ দেখা দিতে পারে।
প্রতিরোধের জন্য ১০ দিন পর পর এবং রোগ দেখা দিলে ৫-৭ দিন পর পর রিডোমিল গোল্ড/ম্যানকোজেব ২ গ্রাম/লিটার হারে
স্প্রে করুন।
* ডাল জাতীয় ফসলে লীফস্পট, রাস্ট, স্টেমফাইলাম রোগ দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ম্যানকোজেব/রোডরাল/নাটিভো ২
গ্রাম/লিটার হারে ৫/৭ দিন পর পর স্প্রে করুন।
* সরিষার ফুল আসার আগে হোয়াইট মোল্ড, লীফস্পট রোগ দেখা দিলে ইপ্রোডিয়ন গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম/লিটার হারে এবং
ফুল আসার পরে রোগ দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক ১ গ্রাম/লিটার হারে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করুন।
* আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে আলুর নাবী ধ্বসা রোগের আক্রমণ হতে পারে। প্রতিরোধের জন্য অনুমোদিত মাত্রায়
ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করুন।
* ঠান্ডাজনিত ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য ফল গাছে নিয়মিত হালকা সেচ প্রদান করুন। কচি ফল গাছ ঠান্ডা হাওয়া থেকে
রক্ষার জন্য খড়/পলিথিন শীট দিয়ে ঢেকে দিন।
* গবাদি পশু ও হাঁসমুরগীর ঘর চট/কালো কাপড় দিয়ে ঘিরে দিন এবং হাই ভোল্টেজ বাল্ব জ্বালিয়ে রাখুন।
(উর্মী আহসান)
উপপরিচালক (বামিস ইউনিট)